ঢাকার সাভারে কোরবানির পশুর হাটে গরু বাঁধা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে হামলার শিকার হয়ে শহীদুল্লাহ কায়সার (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ মে) দিবাগত রাতে শিমুলিয়া ইউনিয়নের পাড়াগ্রাম কোরবানির পশুর হাটে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শহীদুল্লাহ কায়সার ধামরাই উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ি এলাকার মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন এবং এক ছেলে ও তিন কন্যার জনক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, শহীদুল্লাহ কায়সার, তার ভাই ও ভাগ্নে মোট ১৮টি গরু নিয়ে হাটে আসেন। এর মধ্যে ১৪টি গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট চারটি গরু নির্ধারিত স্থানে বাঁধা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, অন্য এক ব্যক্তি একই স্থানে গরু বাঁধতে গেলে শহীদুল্লাহ কায়সার ও তার ভাগ্নে প্রতিবাদ করেন। এ সময় হাটে নিয়োজিত কিছু কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নিহতের ভাগ্নে ফিরোজ কবির বলেন, “গরু বাঁধা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাটের লোকজন ও আরও কয়েকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাকে মারধর করার সময় আমার মামা আমাকে বাঁচাতে গেলে তাকে মারধর করা হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাদের কাছে থাকা অর্থ ও গরু বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাসুদ রানা বলেন, “হাটে গিয়ে দেখি মারামারি চলছে। পরে দেখি আমার ভাগ্নেকে মারধর করা হচ্ছে। তাকে বাঁচাতে গেলে আরও লোকজন এসে হামলা করে। একপর্যায়ে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা হারিয়ে যায়।”
অভিযোগের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, হাট কমিটির কিছু লোক ও ভলান্টিয়ারও হামলায় জড়িত ছিল।
অন্যদিকে ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী রেজাউল বলেন, “কন্ট্রোল রুম থেকে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি, আহত এক ব্যক্তি মারা গেছেন। ঘটনাটির আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাস্থল আশুলিয়া থানার আওতাধীন হওয়ায় বিষয়টি তাদের জানানো হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ