ঈদুল আজহাকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ভয়াবহ যানজটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে সাভার-আশুলিয়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দুই মহাসড়কে—বাইপাইল–আবদুল্লাহপুর এবং নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়কে।
স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এবার ঈদযাত্রায় পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় আরও তীব্র হতে পারে। প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে চলমান উন্নয়ন কাজ, বিশেষ করে ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ সরু হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও খানাখন্দ ও নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে থাকায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
আজ থেকেই ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে সকাল ও বিকেলের অফিস সময় এবং পোশাক কারখানার ছুটির সময়ে এই সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। পুরো ঈদ মৌসুম শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
বাইপাইল মোড়ে দেখা গেছে, বাস, ট্রাক, লেগুনা ও ব্যক্তিগত যানবাহন সড়কের ওপর এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ছে। ইজিবাইক ও রিকশাচালকদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলেও পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, মাত্র ৩০ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রী ও শ্রমিকরা।
ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের অন্তত ১৭ জেলার মানুষের বাড়ি ফেরার অন্যতম প্রধান রুট এই নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়ক। প্রতি বছরই ঈদ মৌসুমে এই সড়কে অতিরিক্ত চাপ ও দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়।
পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, এই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক পোশাক শ্রমিক বসবাস করেন, যাদের অধিকাংশই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার। ঈদে তারা বাসসহ বিভিন্ন পরিবহন রিজার্ভ করে বাড়ি ফেরেন। এতে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যানবাহনও একই রুট ব্যবহার করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে স্বাভাবিক দিনেই যানজট থাকে বলে জানান তারা, ঈদের সময় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
ফারুক/ হাফিজ/ আয়না নিউজ