সাতক্ষীরায় তিনটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা আব্দুল লতিফ (৬৫) মারা গেছেন। সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত ৩টার দিকে কারাগারের ভেতরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আব্দুল লতিফ। পরে দ্রুত তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার দুলাল কর্মকার বলেন, “হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।”
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুর রহমান জানান, রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে বুকে ব্যথা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামার বায়সা গ্রামের মৃত মুনসুর সরদারের ছেলে। তিনি জেলা কমিটির উপদেষ্টা এবং বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, তিনি সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতিতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতার মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর খুলনা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।
সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ