জনগণকে সেবা দেওয়া কোনো করুণা বা দয়া প্রদর্শনের বিষয় নয়, বরং এটি রাষ্ট্র ও জনপ্রতিনিধিদের মৌলিক দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার ও প্রশাসনের প্রতিটি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচিত জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে তিনদিনের ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। তাই জনগণের প্রতি সহানুভূতি নয়, দায়িত্ববোধ থেকেই সেবা প্রদান করতে হবে।
তিনি বলেন, ভূমি সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা আরও সহজ, ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে জনগণ ঘরে বসেই সেবা পেতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে অনলাইন সেবা ব্যবস্থার পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে, যাতে সেবাপ্রার্থীদের সময় ও ভোগান্তি কমে আসে।
দেশে বিভিন্ন পর্যায়ের আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলিয়ে ৪৭ লাখেরও বেশি বিচারাধীন মামলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
এই মুহূর্তে আদালতের বিচারাধীন মামলার দ্রুততম নিষ্পত্তিই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে প্রচলিত আদালতের বাইরেও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত কিংবা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়া জরুরি।
এ সময় প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের একটি উক্তি উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আলোচনা, মধ্যস্থতা বা সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে আদালতে যেমন জট কমবে, তেমনি দ্রুততম সময়ে সমস্যা সমাধান করাও সহজ হবে। এতে বিরোধ শত্রুতায় রূপ নেবে না।
রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম সপ্তাহ থেকেই বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে মনোযোগ দিয়েছে বলে জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের জনগণ রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করে রাজনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করে জনগণকে সহায়তার লক্ষ্যে আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগেই ৩১ দফা এবং সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়টি উল্লেখ করেছিলাম। আজ থেকে সারাদেশে শুরু হওয়া ভূমি সেবা মেলার মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে দেওয়া আরও একটি নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করতে যাচ্ছে।
কৃষিজমির অপব্যবহার রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক ফসলি, দুই ফসলি বা তিন ফসলি জমির ব্যবহার নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। তবে আজ থেকে সারাদেশের জেলা-উপজেলায় শুরু হওয়া এই ভূমি মেলার মাধ্যমে জনগণ নিঃসন্দেহে উপকৃত হবেন। কারণ এই মেলায় ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান গ্রহণ এবং ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির সুযোগ থাকছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ