অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা দুটি অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার–সংক্রান্ত বিদ্যমান কাঠামো সংস্কারের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এরই মধ্যে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
রোববার (১৭ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে খসড়াগুলো নিয়ে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের জন্য একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার, গুমের শিকার সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী ও সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী, আইনজীবী, মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্বাগত বক্তব্য দেন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী।
সভায় অংশীজনরা গুম তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের এসআই পর্যায়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে একজন এসআইয়ের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তে সেই বাহিনীর সম্পৃক্ততা নিয়েও আপত্তি তোলা হয়। কেউ কেউ খসড়া আইন দুটি নিয়ে গণশুনানির দাবি জানান।
নতুন খসড়ায় গুমকে সরাসরি ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর ফলে এটি এখন শুধু মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিচারযোগ্য হবে।
খসড়ায় শাস্তির বিধানও আরও কঠোর করা হয়েছে। আগের অধ্যাদেশে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবনের পাশাপাশি অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও নতুন আইনে ন্যূনতম ১০ বছরের কারাদণ্ড নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়া থানায় মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশ মামলা করার সুযোগ, ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করা এবং নির্ধারিত সময়ে বিচার শেষ না হলে সুপ্রিম কোর্টে ব্যাখ্যা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার বিধানও খসড়ায় যুক্ত করা হয়েছে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক কারণ, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অখণ্ডতার অজুহাতে কাউকে তুলে নেওয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
গুমকে বন্ধ করার আহবান জানিয়ে তাহসিনা রুশদী বলেন, কার্যকর আইন শুধু ভবিষ্যতের নয়, অতীতে ঘটে যাওয়া গুমের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা আর একটি গুমও দেখতে চাই না। নখদন্তহীন মানবাধিকার কমিশনও চাই না। তিনি আরও জানান, মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রতিষ্ঠানটি আরও শক্তিশালী হয়। বাজেট অধিবেশনের পর সংসদে আইন দুটি পাস হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হাফিজ/ আয়না নিউজ