মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। সোমবার (১৮ মে) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার আবদুল্লাহপুরে অবস্থিত তার নানাবাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।
দাফনের আগে সেখানে মরহুমার চতুর্থ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। শেষ বিদায়ে উপস্থিত স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
এর আগে রোববার বিকেলে কারিনার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ সরাসরি রাজধানীর ডিওএইচএস মাঠে নেওয়া হলে সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ এশা বনানী দরবার শরিফে দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হলে সেখানে ভিড় করেন অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী।
গত শুক্রবার (১৫ মে) ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোরে অবস্থিত ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন কারিনা কায়সার। গুরুতর অসুস্থতার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ মে রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল।
এর আগে ৯ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অসুস্থতার খবর নিশ্চিত করেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর কামরুন নাহার ডানা। ওই সময় জানানো হয়, কারিনা হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে লিভার ফেইলরের শিকার হন এবং তাকে আইসিইউ থেকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। ৮ মে রাতে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বিদেশে নেওয়া হয়।
কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তার অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ