সরকার পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছে, যাতে তারা জনগণের আস্থার জায়গায় ফিরে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করায় এর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি দুর্বল অবস্থায় পৌঁছেছিলো।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর পল্লবী পুরাতন থানার সামনে পল্লবী কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘কমিউনিটি পুলিশিং, সবাই মিলে গড়ি নিরাপদ সমাজ’ প্রতিপাদ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্লবী থানা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না, জনগণকে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসের মতো অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, স্কুল, মসজিদ-মাদরাসা, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচি—সব জায়গাতেই তিনি মানুষকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তার মতে, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কোনো বাহিনীর পক্ষেই সফলভাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার এসএন মো. নজরুল ইসলাম এবং মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, সরকার ও পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এই নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে জনগণকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দারা মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ ও পরামর্শ গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং দ্রুত পল্লবী এলাকাকে অপরাধমুক্ত করতে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়রা এ ধরনের ‘ওপেন হাউজ ডে’ আয়োজনকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ