অবৈধ অভিবাসন রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে দক্ষতা উন্নয়ন ও বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি: বাংলাদেশ পরিস্থিতি’ শীর্ষক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ-লিবিয়া-ইতালি রুটে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকিপূর্ণ পথে ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বাংলাদেশে ইতালির রাষ্ট্রদূত, লিবিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর মিশন প্রধান অংশ নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও আকর্ষণীয় করতে হবে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে দক্ষতা প্রশিক্ষণের সমন্বয় ঘটিয়ে কর্মসংস্থান-নিশ্চিত অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে ইতালির রাষ্ট্রদূত জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী জুন থেকে আশ্রয় ও অভিবাসন বিষয়ে নতুন বিধিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে। নতুন এ বিধিমালায় অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হবে বলে জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ভিশনের আলোকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরও বেশি রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী ধারণা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করা এবং মানবিক ও অধিকারভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হন।
হাফিজ/ আয়না নিউজ