পাকিস্তানের মাটিতে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ,এরপর সিরিজ জয়,সব মিলিয়ে দেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় রাওয়ালপিন্ডির সেই স্মৃতি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে সেই স্মৃতি এখনও অন্যরকম আবেগ। ঠিক এক বছর পর মুখোমুখি বাংলাদেশ পাকিস্তান শুধু লড়াই হবে ঘরের মাঠে।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের সামনে নতুন এক বাস্তবতা ঘরের মাঠে নিজেদের প্রমাণে টস ভাগ্য সঙ্গে থাকল না তাদের। পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ টসে জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিলে ব্যাটিংয়ের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দল। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় শুরু হয় প্রথম টেস্ট।
এখনও জয়হীন বাংলাদেশ আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে। বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কা সফরে দুই ম্যাচের সিরিজ হার দিয়ে শুরু করা টাইগারদের পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ থেকে শুরু হওয়া দুই ম্যাচের সিরিজটি শুধু আরেকটি সিরিজ নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ।
বাংলাদেশ শিবিরের আলোচনার বড় জায়গাজুড়ে প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং এর পরিসংখ্যান বলছে, ঘরের মাঠে বড় রান তুলতে না পারাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। গত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে নিজেদের মাঠে ছয় টেস্ট খেলে মাত্র দুবার ৩০০ রানের বেশি করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। অথচ যে ম্যাচে তারা বড় রান তুলেছিল, সেখানেই এসেছে জয়। ২০২৩ সালে সিলেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩১০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩৮ রান করে ১৫০ রানের বড় জয় পেয়েছিল তারা।
আরও পড়ুন-
বিপিএল ফিক্সিংএ কাণ্ডে অভিযুক্ত অমিতসহ ৫ জন
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তাই ব্যাটিংয়ের ভিত্তিটা শক্ত করতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা যদি ৪’শ বা তার কাছাকাছি রান তুলতে পারি। সেটি আমাদের জন্যই খুব ভালো হবে। তবে সেই রান তোলার পথে ব্যাটারদের ওপর আলাদা কোনো চাপ না দিয়ে তিনি মনে করেন, ব্যাটসম্যানদের নিজস্ব খেলাটা খেলেই দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা ৮০ ওভারে ৪’শ রান করলাম নাকি, ১২০ ওভারে করলাম তাতে কিছু আসে যায় না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রান করা। পেসারদের অবদান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট সাফল্যের বড় অংশজুড়ে। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ কিংবা শরিফুল ইসলামদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নতুন আস্থা তৈরি করেছে দলে।
ব্যাটারদের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও মনে করিয়ে দিয়ে বলে, ‘পরিস্থিতি যাই হোক, ব্যাটারদের লড়তে হবে এবং দলের জন্য সেরা পারফরমেন্স দিতে হবে। আশা করি তারা দায়িত্ব নিয়ে খেলবে এবং বোর্ডে ভালো স্কোর জমা করবে। সম্প্রতি পেসাররা সাদা বলের ক্রিকেটে দুর্দান্ত বোলিং করেছে। আশা করি টেস্টেও তারা দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রাখতে পারবে।’ পাকিস্তানও নতুন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে খুব স্বস্তিতে নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে তারা। তাই দুই দলের কাছেই এই সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পয়েন্ট টেবিলের লড়াইয়ে।
তবে ফাইনালের স্বপ্ন এখনই মাথায় আনতে না চাওয়া পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ বলেন, ‘সব দলের ফাইনালে খেলা এবং শিরোপা জয়ের স্বপ্ন থাকে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের মনোযোগ বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে। সামনের চ্যালেঞ্জ ভালোভাবে সামলানো এবং সাফল্য পাওয়া।’
বাংলাদেশ একাদশ
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও ইবাদত হোসেন।
পাকিস্তান একাদশ
আজান আওয়াইস, ইমাম–উল–হক, আব্দুল্লাহ ফজল, শান মাসুদ (অধিনায়ক), সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আগা, শাহিন আফ্রিদি, নোমান আলী, হাসান আলী ও মুহাম্মদ আব্বাস।
এফ এ/আয়না