মো. হাসান ইসলাম, পাবনা : তীব্র গরমে যখন দেশের অধিকাংশ অঞ্চল ধুলোময় ও রোদের প্রখরতায় ক্লান্ত, তখন পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রকৃতি যেন ভিন্ন এক রঙিন উৎসবের আয়োজন করেছে। শহরের পথঘাট, সড়ক ও গাছপালা এখন রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় মোড়া। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত বিদেশিরাও।
ঈশ্বরদী শহরের চারপাশে এখন এক ধরনের “অকাল পুষ্পমেলার” আবহ। আকাশের নীলকে ঢেকে গাছের ডালপালাজুড়ে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, জারুল ও মধুমঞ্জরী মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক বর্ণিল প্রাকৃতিক ক্যানভাস। বিশেষ করে কৃষ্ণচূড়ার টকটকে লাল রঙ পথচারীদের দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বিকেল হলেই রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের উপস্থিতিতে কৃষ্ণচূড়া গাছতলাগুলো হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। অনেকে মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করছেন এই রক্তিম সৌন্দর্য, আবার অনেকে নিঃশব্দে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই অপার রূপ।
স্থানীয় শিক্ষক ও সাংবাদিক খায়রুল বাসার মিঠু বলেন, কৃষ্ণচূড়া শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি গ্রীষ্মের তাপদাহে প্রকৃতির এক প্রশান্তির ছায়া। তবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সচেতনতার অভাবে এই ঐতিহ্যবাহী গাছ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সলিমপুর ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মশিউর রহমান মনে করেন, ঈশ্বরদীর হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কৃষ্ণচূড়া রোপণের উদ্যোগ এখনই নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পল্লী চিকিৎসক হাফিজুর রহমান বলেন, কৃষ্ণচূড়া শুধু চোখের প্রশান্তি নয়, এটি মানুষের জন্য ছায়া ও ভেষজ উপকারিতারও উৎস। কিন্তু বর্তমানে এই গাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।
কবি ও শিল্পী এস এম রাজা বলেন, কৃষ্ণচূড়া ঈশ্বরদীর প্রকৃতিকে একসময় যে রঙে সাজিয়ে তুলেছিল, তা এখন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। সেই হারানো নান্দনিকতা ফিরিয়ে আনতে ব্যাপকভাবে কৃষ্ণচূড়া রোপণ প্রয়োজন।
ফটোগ্রাফার ও গাছের মালিক পারভেজ মোশারফ বলেন, একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ শুধু ছায়া দেয় না, এটি গ্রীষ্মের তাপদাহে মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়। তিনি ঈশ্বরদীর পরিবর্তিত নগর দৃশ্যপটে কৃষ্ণচূড়ার অভাব অনুভব করেন।
তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী মো. খোকন বলেন, কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতির ধৈর্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক। প্রতিকূল পরিবেশেও কীভাবে নিজের সেরা রূপ প্রকাশ করা যায়, তা এই গাছ আমাদের শেখায়।
সব মিলিয়ে ঈশ্বরদীর কৃষ্ণচূড়ার এই রক্তিম উৎসব এখন শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং হারিয়ে যেতে বসা এক পরিবেশগত ঐতিহ্যকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
হাসান/ হাফিজ/ আয়না নিউজ