| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

খোলা আকাশের নিচে দেড়শ শিশুর অনিশ্চিত শৈশব

  • আপডেট টাইম: 04-04-2026 ইং
  • 210134 বার পঠিত
খোলা আকাশের নিচে দেড়শ শিশুর অনিশ্চিত শৈশব

সুভাষ বিশ্বাস, নীলফামারী: 

​নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম দক্ষিণ মেলাবর। যেখানে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ১৯৮৬ সালে স্থাপিত হয়েছিল একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু আজ সেই স্কুলে ‘আলো’ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মাথার ওপর ঝুলে আছে দুর্ঘটনার কালো মেঘ। জরাজীর্ণ ভবনের পলেস্তারা খসে পড়া আর দেয়ালে বড় বড় ফাটলের কারণে তিন বছর ধরে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে স্কুলটি। আর তার পর থেকেই শুরু হয়েছে দেড় শতাধিক কোমলমতি শিশুর এক অমানবিক জীবনযুদ্ধ।

​কষ্টের প্রহর কাটে খোলা মাঠে গত তিন বছর ধরে রোদ-বৃষ্টি কিংবা হাড়কাঁপানো শীত—সবই সইতে হচ্ছে এই শিশু শিক্ষার্থীদের। রোদের তীব্রতায় যখন শরীর ঘামে ভেজে, কিংবা হঠাৎ বৃষ্টিতে বই-খাতা ভিজে একাকার হয়, তখনো জ্ঞান অর্জনের অদম্য ইচ্ছায় ওরা বসে থাকে খোলা আকাশের নিচে বিছানো মাদুরে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ ব্যথিত হৃদয়ে বলেন, দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে আমরা খুব কষ্টে পাঠদান চালাচ্ছি। আবহাওয়া খারাপ হলে ক্লাস নেয়ার কোনো উপায় থাকে না। শিশুদের এই চরম ভোগান্তি আর সহ্য হয় না।

​অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মানছে প্রতিকূলতা:

চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সৌরভ আর পঞ্চম শ্রেণীর জয়ন্তের চোখেমুখে বড় হওয়ার স্বপ্ন। তারা জানায়, ঝড়-বৃষ্টির দিনেও আমরা খোলা মাঠেই থাকি। গ্রামে আর কোনো স্কুল নেই, তাই এখানেই পড়তে হয়। আমরা চাই আমাদের জন্য একটা সুন্দর ক্লাস রুম হবে, যেখানে বৃষ্টির ভয় থাকবে না। তাদের কথাগুলোতে ফুটে ওঠে এক করুণ বাস্তবতা যেখানে আধুনিক শিক্ষার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, সেখানে এক টুকরো নিরাপদ ছাদের জন্য হাহাকার করছে একদল আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।

​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও আশ্বাস

বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে সরকারি অনুদানে নির্মিত হলেও গত তিন দশকে একবারও সংস্কার করা হয়নি। ফলে ২০২৪ সালের শুরুতে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়। উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান জানান, পিইডিপি-৪ প্রকল্প শেষ হওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে পিইডিপি-৫ চালু হলে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিবির মাধ্যমে নতুন ক্লাসরুম তৈরির বিষয়টি তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

​উপজেলা শিক্ষা অফিসার ড. মাহমুদা খাতুন বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। আগামীতে প্রকল্প শুরু হলে সবার আগে এই বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

বড় বড় ভবন আর অবকাঠামোর ভীড়ে দক্ষিণ মেলাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই দেড়শ শিশুর কান্না কি পৌঁছাবে কর্তৃপক্ষের কানে? খোলা আকাশের নিচের এই পাঠদান কবে শেষ হবে, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পুরো গ্রাম। আপাতত এক বুক আশা আর অনিশ্চয়তা নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়েই দিন কাটছে এই খুদে শিক্ষার্থীদের।


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪