আশরাফ উদ্দিন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাটাজোর মুচিরা গ্রামের গিলাচালা এলাকার বাসিন্দা। ১৯৯৭ সালে পরিবারে স্বচ্ছতা ফেরাতে পাড়ি জমান সিঙ্গাপুরে। দীর্ঘ ২৫ বছরের প্রবাস জীবন শেষে ২০২২ সালে দেশে ফিরে প্রথমে কৃষিকাজে মনোযোগ দেন তিনি।
শুরুতে ৫০ শতাংশ জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ, এরপর ৯০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে সিডলেজ লেবুর বাগান করলেও আশানুরূপ ফল পাননি। পরে নিজের ৮০ শতাংশ জমিতে কলা চাষ শুরু করলে ধীরে ধীরে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি। প্রবাস জীবনে মাশরুমের সঙ্গে পরিচিত আশরাফে ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ সম্পর্কে আগ্রহী হলে স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ঢাকার সাভারে মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প’এর আওতায় ১০ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
প্রশিক্ষণ শেষে বাড়িতে স্ত্রী হামিদা আক্তার ও অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই ছেলে হাসান ও হুসাইনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মাশরুম চাষ শুরু করেন। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম উৎপাদনের পরিকল্পনায় নিজের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন আশরাফ উদ্দিন। মাশরুম চাষের পাশাপাশি গরু পালন ও কলা চাষসহ বিভিন্ন কৃষিকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যে ৩ মাসে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মাশরুম বিক্রি করেছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আশরাফ উদ্দিনকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।