| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অবহেলায় অস্তিত্ব সংকটে গাইবান্ধার বধ্যভূমি

  • আপডেট টাইম: 25-03-2026 ইং
  • 224545 বার পঠিত
অবহেলায় অস্তিত্ব সংকটে গাইবান্ধার বধ্যভূমি

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও যে মাটিতে একসময় মুক্তিযুদ্ধের নির্মমতা আর শহীদের রক্ত মিশে ছিল, সেই গাইবান্ধার বহু বধ্যভূমি আজ নিজ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। সংরক্ষণের অভাব, দখলদারিত্ব এবং অবহেলায় জেলার অধিকাংশ বধ্যভূমি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। গাইবান্ধায় চিহ্নিত ৪৩টি বধ্যভূমি ও গণকবরের মধ্যে অন্তত ২৫টির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কোথাও আবর্জনার ভাগাড়, কোথাও প্রভাবশালীদের দখল, আবার কোথাও চলছে কৃষিকাজ এ যেন ইতিহাসকে মুছে ফেলার এক নীরব প্রক্রিয়া।

২০১৪ সালে উচ্চ আদালত সারা দেশের বধ্যভূমি সংরক্ষণের নির্দেশ দিলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি। ‘বদ্ধভূমি সংরক্ষণ কমিটি’ থাকলেও এ স্থান গুলো সংরক্ষণে বাস্তবিক ফলাফল খুব একটা দেখা যায়নি। প্রতিবছর এইদিনটি এলে বদ্ধভূমি সংক্ষণে সরকারের নানা সমালোচনা করে ব্যর্থতা তুলে ধরে প্রতিবাদ সমাবেশ মিটিং, মিছিল আলোচনা সভাসহ মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কিংবা আলোর মিছিলের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে বদ্ধভূমি উদ্ধার কিংবা সংরক্ষণ করতে বদ্ধভূমি সংরক্ষণ কমিটি সফল হয় না। যার মধ্যে একটি গাইবান্ধা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জেলা শহরের প্রধান বদ্ধভূমি।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরাধীন শক্তির আত্মসমর্পণ দিনেও গাইবান্ধার প্রত্যন্ত অঞ্চলজুড়ে চলছিলো শোকের নিঃশব্দ স্রোতের দাগ মুছে যায়নি আজও। গাইবান্ধা শহরের কেন্দ্রস্থলে জেলা স্টেডিয়ামসংলগ্ন বধ্যভূমি অসংখ্য অচেনা শহীদের নিঃশব্দ কবর। আজ সেই জায়গা আগাছায় ভরা, নেই কোনো স্মৃতিস্তম্ভ উল্টো সেখানে চলছে চাষাবাদ। অধিকাংশ বধ্যভূমি ও গণকবর এখনো পায়নি প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সংরক্ষণ যা ইতিহাসের প্রতি এক গভীর অবহেলার প্রতিচ্ছবি।

গাইবান্ধা বদ্ধভূমি সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মোস্তফা মনিরুজ্জামান বলেন, ২০২২ সালে ৭ ফ্রেব্রুয়ারি গাইবান্ধার গণপূর্ত বিভাগ বদ্ধভূমি সংরক্ষণ করাসহ সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ করবে বলে জানায়। এই স্থানটিতে ক্ষমতাচ্যুত তৎকালীন আ.লীগের ফ্যাসিস্ট সরকার ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার’ নির্মাণের পরিকল্পনা নিলে জেলার বধ্যভূমি সংরক্ষণ কমিটিসহ গাইবান্ধার প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এর বিরোধিতা করলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। রীট-আপীল প্রক্রিয়াতে এই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও স্থগিত হয়। শহিদের স্মৃতিবাহী এ জায়গায় কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা ইতিহাসের প্রতি চরম অসম্মান। 

গাইবান্ধার বদ্ধভূমি সংরক্ষণ কমিটি সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে গাইবান্ধার পৌরপার্কের স্মৃতিস্তম্ভ থেকে আলোর মিছিল নিয়ে জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন বদ্ধভূমিতে যাবে। এছাড়া একই দিন বিকেল ৪টা থেকে পৌর পার্কের শহীদ মিনারে আলোচনা, গান-কবিতা ও আলোর মিছিলের উদ্যোগ রেখেছে গাইবান্ধার প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমুহ। 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪