| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সৎ মায়ের নির্যাতন, মায়ের কবরের পাশে কাঁদছে শিশুটি

  • আপডেট টাইম: 24-03-2026 ইং
  • 224810 বার পঠিত
সৎ মায়ের নির্যাতন, মায়ের কবরের পাশে কাঁদছে শিশুটি

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এক এতিম শিশুর ওপর সৎ মায়ের নির্যাতনের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হৃদয়বিদারক একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে অভিযুক্ত সৎ মাকে সতর্কতামূলক মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টায় শিশুটিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। এ সময় সৎ মা আয়েশা আক্তার উপস্থিত হয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।

জানা যায়, ১২ বছর বয়সী ছামিয়া আক্তার লালমাই উপজেলার পোহনকুছা পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রায় চার বছর আগে তার মা মারা যান। এরপর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে সৎ মায়ের সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের দাবি, শিশুটিকে প্রায়ই মারধর করা হতো। এমনকি সম্প্রতি টানা দুই দিন তাকে ঘরের ভেতরে বেঁধে রেখে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে। বিষয়টি বাবাকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।


এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরীটি তার মায়ের কবরের পাশে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে বলে,

আমারে কেন আপনার সঙ্গে নিয়ে গেলেন না... আম্মু গো, আমি আসছি... আমাকে নিয়ে যান…”হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য দ্রুতই নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং ব্যাপক সহানুভূতির সৃষ্টি করে।

ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, সৎ মা আয়েশা আক্তারকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পুনরায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে সচেতন মহল শিশুটির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪