সুভাষ বিশ্বাস, নীলফামারী
নীলফামারীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছেই। জেলার সাধারণ মানুষ তেলের অভাবে দিশেহারা, আর তেল পেতে গিয়ে ক্রমেই ধরা পড়ছে বড় ধরনের অবৈধ ব্যবসার ছায়া। অপরদিকে অধিকাংশ তেল পাম্প বন্ধ থাকলেও বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে অতিরিক্ত মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) জেলার বিভিন্ন জায়গায় এমন চিত্র দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাম্প মালিক ও একদল অসাধু চক্র একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে, যা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ দামে তেল বিক্রি করছে।
গত তিন সপ্তাহ ধরে জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে "তেল নেই" লেখা সাইনবোর্ড ঝুলানো হলেও, অনুসন্ধানে দেখা গেছে আসল চিত্র ভিন্ন। অভিযোগ রয়েছে, পাম্পে তেল আসার সঙ্গে সঙ্গে তা সাধারণ গ্রাহকদের না দিয়ে রাতের আঁধারে গুদামে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকরা তেল কিনতে পারছেন না, আর পাম্প মালিকরা অবৈধভাবে অধিক মুনাফা পাচ্ছেন।
হাট বাজারের দোকানগুলোতে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায় ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। অথচ সরকার নির্ধারিত দামে পেট্রোল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থাকার কথা।
মেসার্স মোজাম্মেল অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের মালিক মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা চাহিদা মতো তেল পাচ্ছি না সরবরাহ কম। যে পরিমাণ তেল মজুত করেছিলাম সেটা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে সরবরাহ না থাকলে তেল দেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া ঈদের সময়ে ব্যাবসা ভালো হয়, তেল না থাকার কারণে পাম্প বন্ধ রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, কেউ অবৈধভাবে তেল মজুত করলে সেখানে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা সব জায়গায় খোঁজখবর নিচ্ছি।
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, বিষয়টি জানতে পারলাম, কোথাও অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।