| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ ফিরলো, উৎস নিয়ে প্রশ্ন নয়

  • আপডেট টাইম: 11-06-2026 ইং
  • 241 বার পঠিত
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ ফিরলো, উৎস নিয়ে প্রশ্ন নয়

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করা অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আগের আওয়ামী লীগ সরকারের মতো বিশেষ কর সুবিধা না দিয়ে নিয়মিত হারে কর পরিশোধের মাধ্যমে এই অর্থ বৈধ করার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেটে আয়কর আইনে নতুন বিধান যুক্ত করে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করে থাকলে তিনি পরবর্তীতে আয়কর রিটার্নে সেই অর্থ প্রদর্শন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করতে হবে। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য এই করহার ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

একইভাবে কোনো বিক্রেতা যদি সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য গোপন করে থাকেন, তাহলে প্রকৃত মূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূলধনী কর (ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স) পরিশোধ করে সেই অর্থ বৈধ করতে পারবেন।

বাজেট প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, স্বপ্রণোদিতভাবে ঘোষণা দেওয়ার আগেই যদি আয়কর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য উদঘাটন করে বা করদাতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাহলে প্রদেয় করের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি তিন বছর আগে ঢাকায় ২ কোটি টাকায় একটি ফ্ল্যাট কিনলেও দলিলে ৫০ লাখ টাকা মূল্য দেখিয়েছেন। বাকি দেড় কোটি টাকা অপ্রদর্শিত থেকে গেছে। তিনি যদি এখন সেই অর্থ বৈধ করতে চান, তাহলে দেড় কোটি টাকার ওপর ৩০ শতাংশ হারে ৪৫ লাখ টাকা কর দিতে হবে। আর আয়কর বিভাগ আগে বিষয়টি শনাক্ত করলে অতিরিক্ত ৯ লাখ টাকা জরিমানাও পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে বিক্রেতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একই পরিমাণ অর্থ গোপন করলে তাকে ১৫ শতাংশ হারে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূলধনী কর দিতে হবে। আয়কর বিভাগ বিষয়টি শনাক্ত করার পর ঘোষণা দিলে অতিরিক্ত সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।

নতুন বিধানে উল্লেখ করা হয়েছে, এই পদ্ধতিতে অতীতে বিনিয়োগ করা অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা হলে বিনিয়োগ, সম্পত্তি ক্রয় কিংবা অর্থের উৎস নিয়ে দেশের প্রচলিত অন্য কোনো আইনের আওতায় প্রশ্ন তোলা বা কোনো ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।

তবে আদালতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি কিংবা যাদের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তারা এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না বলে বাজেট প্রস্তাবে স্পষ্ট করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকার ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দিয়েছিল। পরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার সেই সুবিধা বাতিল করলেও বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে নতুন কাঠামোয় আবারও অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ ফিরিয়ে আনা হলো।

হাফিজ/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪