শাপলা চত্বরের ঘটনায় এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো মামলার বিচার কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। ২০১৩ সালের এই দিনে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর বিতর্ক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ওঠে।
সেদিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালে প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন পক্ষ দাবি করে। তবে ঘটনার প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা ও পরিস্থিতি নিয়ে আজও ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।
অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাগুলোকে ঘিরে এখনো বিচারহীনতার অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং দ্রুতই তা সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে। তবে এখনো বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু বা শেষ হয়নি বলে জানা গেছে।
ঘটনার ১৩ বছর পূর্তিতে ভুক্তভোগীদের পরিবারগুলো আবারও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা আজও কাটেনি, বরং সময়ের সঙ্গে তা আরও গভীর হয়েছে। অনেক পরিবারই এখনও ঘটনার পূর্ণ স্বীকৃতি ও দোষীদের বিচার দাবি করছে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা দাবি করেছেন, শাপলা চত্বরের ঘটনাকে তারা ‘ফ্যাসিবাদী দমননীতি’র অংশ হিসেবে দেখেন এবং এর সাথে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করে বিচার নিশ্চিত করার আহবান জানান।
সংগঠনের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার সময় নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা ও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি। তাদের দাবি, ভয়ভীতি ও সামাজিক চাপের কারণে অনেক ভুক্তভোগী পরিবারও প্রকাশ্যে আসতে সাহস পান না।
অন্যদিকে, প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তদন্ত শেষের দিকে রয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত সহিংসতার বিষয়গুলোও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
তবে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত রায় বা বিচারিক সিদ্ধান্ত না আসায় ঘটনাটি দেশের অন্যতম আলোচিত বিচারহীনতার উদাহরণ হিসেবে রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকরা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হাফিজ/ আয়না নিউজ