| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রূপগঞ্জে স্কুল ফিডিং প্রকল্পে নিম্নমানের খাবার বিতরণের অভিযোগ

  • আপডেট টাইম: 28-04-2026 ইং
  • 162523 বার পঠিত
রূপগঞ্জে স্কুল ফিডিং প্রকল্পে নিম্নমানের খাবার বিতরণের অভিযোগ

হাবিবুল্লাহ মীর, রূপগঞ্জ ( নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলমান স্কুল ফিডিং (মিড ডে মিল) কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে নিম্নমানের, বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার বিতরণের কারণে অনেক শিশু পেটের পীড়াসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার ১১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২২ হাজার ৯২৩ জন শিক্ষার্থী এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়া রোধ করা।

খাদ্যতালিকা অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, ইউএইচটি দুধ, ফর্টিফাইড বিস্কুট এবং মৌসুমি ফল বা কলা বিতরণের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক বিদ্যালয়ে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেশ কিছু বিদ্যালয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটিতে পোকা, ডিমে দুর্গন্ধ এবং কাঁচা বা অতিরিক্ত পাকা কলা সরবরাহের ঘটনা দেখা গেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে শিশুদের মধ্যে পেটের পীড়া, বমি ও অন্যান্য রোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। তারা প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকির অভাবকেই দায়ী করছেন।

এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে কিছু বিদ্যালয়ে নিয়মিত খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকার ঘটনাও পাওয়া গেছে। কাঞ্চন পৌরসভার বিরাবো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কেন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এ সমস্যা লক্ষ্য করা গেছে।

বিরাবো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রওশন আরা বেগম বলেন, বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা দুঃখজনক। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

অন্যদিকে, খাদ্য সরবরাহকারী এক সাব-ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম প্রিন্স দাবি করেন, প্রতিদিনই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।

রূপগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহরুক জাবীন জানান, আমি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। জ্বালানি সংকটের কারণে ঠিকাদাররা শতভাগ খাবার সরবরাহ করতে পারছেন না। যতটুকু সরবরাহ করা হচ্ছে, ততটুকুর বিল পরিশোধ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঠিকাদারদের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হয়। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

হাবিবুল্লাহ/ হাফিজ/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪