সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের‘ক্যাশিয়ার’মিজানুর রহমান শাহীন জার্মান দূতাবাসে ভিসার সাক্ষাৎকার দিতে কাতার থেকে দেশে ফেরার পর গ্রেফতার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আপন ভাগনে মিজানুর রহমান শাহীন ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার একটি ব্যাংকের সাবেক শাখা ম্যানেজার ছিলেন। গত বছরের ৭ জুলাই শাহীন কাতার পালিয়ে গিয়েছিলেন। আজ বুধবার সকালে ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাসে তার ভিসার জন্য সাক্ষাৎকার দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে বিমানবন্দরে নামার পরপরই ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
দোহার থানা জানিয়েছে, গত ২০ মে রাতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে দোহারের শাইনপুকুর এলাকায় স্থানীয় যুবক রাফি করিমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রাফি করিমের মা আনোয়ার খানম বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে দোহার থানায় মামলা করেন। মামলার পর থেকেই মিজানুর রহমান শাহীন আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে কাতারে পাড়ি জমান।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক জামাল উদ্দিন জানান,এ মামলায় ইতিমধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি শহিদ, টিটু, হুকুম আলী ও আলামিনকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আলামিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাগনে শাহীন শাইনপুকুর এলাকার বেশ কয়েকটি দিঘি দখল করেন। এর মধ্যে রাফি করিমদেরও কয়েকটি দিঘি ছিল। ৫ আগস্টের পর রাফি করিম নিজেদের দিঘির নিয়ন্ত্রণ নিলে শাহীন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। শাহীনের নির্দেশেই আলামিনসহ অন্যরা রাফি করিমকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
কাতার থেকে বাংলাদেশে আসা শাহীনের মূল কারণ ছিল জার্মান দূতাবাসে ভিসা সাক্ষাৎকার দেওয়া। আজ ভোরে গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক জামাল উদ্দিন।
এফ এ / আয়না টিভি