জেল-জরিমানার বিধান রেখে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। নতুন এই আইনে বিধান লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আইনটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর ও জলাভূমি এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি সম্প্রসারণকে সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে হাওর উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতর গঠন করা হয়। তবে অধিদফতর প্রতিষ্ঠার পরও হাওর অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদীপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পর্যটনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর আইনি কাঠামোর ঘাটতি অনুভূত হয়।
এ প্রেক্ষাপটে ২০২০ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) রিট আবেদন করলে হাইকোর্ট জলাভূমি সুরক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন দ্রুত প্রণয়নের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতাও উল্লেখ করা হয়।
এসব দিক বিবেচনায় এনে হাওর ও জলাভূমি এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
আইনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারবেন। তবে নির্ধারিত দণ্ডের বাইরে অতিরিক্ত শাস্তির কোনো বিধান রাখা হয়নি।
হাফিজ/ আয়না নিউজ