জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন এই তিনটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের কৃতিত্ব বিএনপির। তার ভাষায়, এই তিনটি আন্দোলনের ট্রফিই বিএনপির ঘরে।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তাকে উদ্দেশ্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনি ওই চেয়ারে বসে আছেন মানে ১৯৭১ বসে আছে।” তিনি স্পিকারকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে জানান, তাকে এ পদে বসানোর কৃতিত্বও বিএনপির।
বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র বিভিন্ন রাজনৈতিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, জামায়াত নেতাদের দায়মুক্ত করা এবং তাদের জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতেই খালেদা জিয়া তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিলেন, যা তাদের সরকারে অন্তর্ভুক্তির অংশ ছিল।
এছাড়া শহীদ মিনারে যাওয়ার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিরোধীরা অনুসরণ করে, সেটিও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের অবদান বলে দাবি করেন তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তিনি অভিযোগ করেন, এসব বিষয় তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন।
প্রতিমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েও দেশ স্বাধীন করতে অবদান রেখেছেন।
সরকারি দলের বেঞ্চে মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে বহু প্রথিতযশা মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, যা বিরোধী দলের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি নিজেই সংসদে দলটিকে স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন—যা তার মতে বাস্তবতার প্রতিফলন।
শেষে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, অতীতের বিভাজন ভুলে দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নানা দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এখন সময় সম্মিলিতভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার।
হাফিজ/ আয়না নিউজ