বাংলাদেশ থেকে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, এই ১৪ বছরে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের গড় পরিমাণ বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকার সমান।
পাচার হওয়া অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে এবং বাকি দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং আইনি সহায়তা জোরদার করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের অধীনে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এসব মামলার তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
সম্পদ জব্দের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে প্রায় ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার এবং বিদেশে প্রায় ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ আদালতের মাধ্যমে ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়া অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল এবং ৬টি মামলার রায় হয়েছে।
সরকার দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিগত সরকারের সময় সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।