মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে আটকে পড়া ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহায়তায় একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ)জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরু থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে।
তিনি জানান, জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও তেহরান থেকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
অধিবেশনে ব্যারিস্টার আরমান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট সম্পর্কে জানতে চান। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমানে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে এবং একাধিক উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
চলমান সংঘাতে বাংলাদেশিদের হতাহতের প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ দুঃখ প্রকাশ করে জানান, এ পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, বিশ্বের যেখানেই বাংলাদেশিরা অবস্থান করুন না কেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।