দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
যুগ্মসচিব জানান, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেলের মজুত রয়েছে। এছাড়া ৩০ মার্চ ও ৩ এপ্রিল মোট ৫৪ হাজার ৬০০ টন তেল দেশে পৌঁছাবে। এপ্রিল মাসেই মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে আরও ১ লাখ ৫৪ হাজার টন তেল আমদানি হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়া থেকে দুই মাসের জন্য ৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতিও চাওয়া হয়েছে, কারণ কিছু দেশের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যে ভারত থেকে ২২ হাজার টন ডিজেল দেশে এসেছে এবং দেশটির সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় এই সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া থেকেও তেল আমদানি হচ্ছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে তেল আমদানির বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে সব জাহাজ বাংলাদেশের পতাকাবাহী না হওয়ায় এ ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা থাকতে পারে।
সরকার আপাতত জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং কৃষকদের কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল পৌঁছে দিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওদের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।