যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালত ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড এবং স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়াকে কঠিন করে তুলতে যেসব নীতি অবলম্বন করছে সেসব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ডিস্ট্রক্ট কোর্টের বিচারক জুলিয়া কোবিক এক রায়ে মার্কিন প্রশাসনের এসব নীতি বৈষম্যমূলক এবং অবৈধ বলে উল্লেখ করেছেন।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের ৩৯টি দেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য। একই সঙ্গে ৩৯টি দেশের যেসব নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড এবং স্থায়ী আবাসনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।
আরও পড়ুন-
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন মার্কিন নাগরিক ও অভিবাশন পরিষেবা সংস্থা (ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস- ইউএসসিআইএস) ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি নীতি গ্রহণ করে সেই নীতির আওতায় আংশিক কিংবা পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশগুলো থেকে অভিবাসীদের জাতীয়তাকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক বিষয়’ হিসেবে গণ্য করা শুরু হয়। এর ফলে ডিসেম্বরে ম্যাসাচুসেটসের রাজধানী বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করেন ইরান, হাইতি, ভেনেজুয়েলা, সিরিয়াসহ নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশগুলোর সারিতে থাকা ২০টি দেশের ২০০ জন নাগরিক।
ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জুলিয়া কোবিক গতকাল সেই মামলার রায় ঘোষণা করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের আবেদন পর্যালোচনায় মার্কিন প্রশাসন যে স্থগিতাদেশ দিয়েছে রায়ে সেই স্থগিতাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিচারক বলেছেন, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা আবেদনপত্র যাচাইয়ে যে স্থগিতাদেশ দিয়েছে তা একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন এবং মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নির্দেশের পরিপন্থি।ফেডারেল আদালত রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এফ এ/আয়না