বিশেষ প্রতিনিধি, Farhana Ahmed।।
বিশ্বের অনেক দেশেই মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। মায়ের সঙ্গে সন্তানের ভালোবাসা যুগ-যুগান্তের। মায়ের প্রতি ভালোবাসা জানানোর জন্য আলাদা দিনের প্রয়োজন নেই তারপরেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বিশেষভাবে পালন করে এ দিনটি।
এবার মে মাসের দ্বিতীয় রোববার ১০মে কে ঘিরে সন্তানরা নানা আয়োজনে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছে। সন্তানেরা ফুল, শুভেচ্ছা কার্ড ও উপহার দিয়ে মাকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি কেক কেটে এ দিনটি পালন করছে। মা দিবস পালন নিয়ে রয়েছে ভিন্ন মতও। অনেকের মতে মায়ের প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম ভালোবাসা কোনো একটি দিনের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতে পারে না। মাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর জন্য বিশেষ আয়োজনেরও প্রয়োজন নেই। তর্ক-বিতর্ক যাই থাকুক না কেন মা দিবস বিশ্বজুড়ে ঘটা করেই পালিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আধুনিক মা দিবসের প্রচলন শুরু করেন আনা মারিয়া রিভস জার্ভিস। আনার মা অ্যান মারিয়া রিভস জার্ভিস ছিলেন একজন শান্তিবাদী সমাজকর্মী। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব’। ১৯০৫ সালে অ্যান মারিয়া রিভস জার্ভিস মারা গেলে তার মেয়ে আনা মায়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়ে পৃথিবীর সব মাকে সম্মান জানাতে একটি বিশেষ দিবস চালুর জন্য নিরলসভাবে কাজ শুরু করেন।
আরও পড়ুন-
নাটোরে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
আনা তার মায়ের স্মরণে ১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি গির্জায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে একই বছর মার্কিন কংগ্রেস মা দিবসকে সরকারি স্বীকৃতি ও ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। কিন্তু আনা থেমে না যেয়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মা দিবস পালনের প্রচলন শুরু করে। অবশেষে ১৯১৪ সালে আনার দীর্ঘ প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন এবং দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিবসটিকে ঘিরে বাণিজ্যিকীকরণ শুরু হলে মা দিবসের মূল চেতনা ক্ষুণ্ন হওয়ায় আনা জার্ভিস জীবনের শেষ দিকে দিবসটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন।
এফ এ/আয়না