| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে তেলের দাম লাফ, শেয়ারবাজারে ধস

  • আপডেট টাইম: 02-03-2026 ইং
  • 170769 বার পঠিত
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে তেলের দাম লাফ, শেয়ারবাজারে ধস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে, পাশাপাশি শেয়ারবাজারে নেমেছে বড় ধরনের পতন। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত ডলার ও স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬.০৭ ডলারে পৌঁছায়; লেনদেনের একপর্যায়ে তা ৮২ ডলারও ছাড়ায়। একই সময়ে মার্কিন ক্রুডের দাম ৩.৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৬৯.৫৯ ডলারে। স্বর্ণের দামও প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আউন্সপ্রতি ৫,৩২৭ ডলারে ওঠে।

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল উত্তেজনা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা এবং এর জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাত আরও চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ

বিশ্ববাজারের নজর এখন হরমুজ প্রণালির দিকে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালি বন্ধ ঘোষণা না করা হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিমা জটিলতায় জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক তেলবাহী ট্যাংকার দুই প্রান্তে আটকে আছে বলে জানা গেছে।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জ লিওনের মতে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত না মিললে তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে।

ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তেও অনিশ্চয়তা

এদিকে ওপেক প্লাস এপ্রিল মাসে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেই অতিরিক্ত তেল নিরাপদে রপ্তানি করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯৭০-এর দশকের তেল নিষেধাজ্ঞার তুলনা করছেন, যে সময় তেলের দাম প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছিল। 

শেয়ারবাজারে প্রভাব

তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৪ শতাংশ কমেছে; বিশেষ করে এয়ারলাইন্স খাত বড় ধাক্কা খেয়েছে। অন্যদিকে চীনের সিএসআই ৩০০ সূচক তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের ব্যয় বাড়বে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪