| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

প্রতিহিংসার বলি কয়েকশ কলা গাছ !

  • আপডেট টাইম: 21-12-2025 ইং
  • 238275 বার পঠিত
প্রতিহিংসার বলি কয়েকশ কলা গাছ !

প্রতিহিংসার শিকার হলো অবলা প্রকৃতি। নীলফামারীর লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কেটে সাবাড় করা হয়েছে কয়েকশ ফলন্ত কলা গাছ। জমি দখলের উদ্দেশ্যে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য স্থানীয়রা দায়ী করছেন একদল ভূমিদস্যু ও দুর্বৃত্তকে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এভাবেই নিথর হয়ে পড়ে আছে শত শত কলাগাছ। কাটা, ভাঙা আর ক্ষত-বিক্ষত গাছগুলো যেন নীরবে বলে দিচ্ছে নির্মমতার গল্প। ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের দুবাছুরি সরকারপাড়া এলাকায়।

ভুক্তভোগী লিপি রানী সরকার জানান, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৩২ শতক জমিতে তিনি প্রায় ৪০০টি কলাগাছ রোপণ করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি নিয়ে প্রতিবেশী দুলাল চন্দ্র শীল গংদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে, নীলফামারী সিনিয়র সহকারী জজ আদালত লিপি রানী সরকারের পক্ষে রায় ও ডিক্রি দেন।

আদালতের রায়ের পর চাষাবাদ শুরু করলেও গত ১৯ ডিসেম্বর বিকেলে দুলাল চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে একদল লোক অতর্কিত হামলা চালিয়ে পুরো কলাবাগান কেটে সাবাড় করে দেয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

খবর পেয়ে লিপি রানীর ভাই শ্যামল চন্দ্র সরকার কলাক্ষেতে গেলে প্রতিপক্ষ স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানীর উপস্থিতিতে এবং দুলাল চন্দ্র শীল, শান্ত শীল, সাগর শীল, নির্মল চন্দ্র সরকার, হিমাংশু চন্দ্র সরকার, সুধাংশু সরকারের নেতৃত্বে আরো কয়েকজন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও হত্যার  হুমকী দেয়। 

শ্যামল চন্দ্র সরকার অভিযোগ করে বলেন, মহামান্য আদালত থেকে রায় পেয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয়ের সাথে পরামর্শ করে ওই জমিতে চাষাবাদ শুরু করি কিন্তু প্রতিপক্ষরা আদালতের রায় উপেক্ষা করে তাদের জমি বলে বল প্রয়োগ করছে। যা বেআইনি। 

শ্যামল বলেন, জমি নিয়ে আমরা চরম শংকায় রয়েছি। প্রতিপক্ষরা যেকোন সময় আমাদের উপর হামলা চালাতে পারে। মুঠোফোনে বিভিন্ন সময় আমাকে হত্যার হুমকী দেয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমি নীলফামারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি।

জানতে চাইলে দুলাল চন্দ্র শীল অভিযোগ করে বলেন, আমি আমার জমি দখল করেছি। কার্তিক চন্দ্রের জমির সাথে তাদের (লিপি রানী সরকার) জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্ধ চলছে। আদালতে আমার কোন মামলা নেই।

লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গোলাম রব্বানী জানান, এখানে ব্যাপার রয়েছে। এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে পারবো না।

জানতে চাইলে নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, দুই পক্ষ থানায় অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪