আব্দুল মোমিন, সাতক্ষীরা : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। সীমান্তবর্তী এ জেলায় এবার ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ থাকায় সম্পূর্ণ দেশীয় পশুর সরবরাহেই গড়ে উঠেছে বাজার ব্যবস্থা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় কোরবানির জন্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বিপরীতে জেলায় চাহিদা রয়েছে প্রায় ৮২ হাজার পশু। ফলে এবার প্রায় ১৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ. এম. মান্নান কবীর জানান, জেলার ৭টি উপজেলায় ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে গরু, ছাগল ও ভেড়া লালন-পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া।
এদিকে খামারিরা জানান, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও কোরবানির বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তবে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ বন্ধ থাকায় দেশীয় পশুর বাজার ভালো থাকার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকেই।
সদর উপজেলার চাঁদপুর এলাকার এমবিএ পাস তরুণ উদ্যোক্তা মো. আলমগীর হোসেনের খামারে রয়েছে ৪০টি কোরবানির পশু। প্রতিদিনই বড় আকারের গরু দেখতে এবং বুকিং দিতে খামারে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তাঁর খামারে ১ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকার গরু রয়েছে।
খামার পরিদর্শনে দেখা যায়, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে আলাদা পরিচর্যার মাধ্যমে গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে। নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখছেন কর্মীরা।
তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা এলাকার খামারি প্রভাষ ঘোষ জানান, তার খামারের দুটি বড় গরুর দাম প্রায় ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
অন্যদিকে বকচরা গ্রামের খামারি আব্দুল আজিজ মাত্র ছয় মাস আগে খামার শুরু করলেও বর্তমানে তার ১০টি গরু রয়েছে। দেশীয় ঘাস ও প্রাকৃতিক খাদ্যে পশু লালন করায় তিনি কিছুটা আশাবাদী।
খামার মালিক আলমগীর হোসেন জানান, দীর্ঘ প্রস্তুতির মাধ্যমে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু পালন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আকারের গরু ক্রেতারা দেখছেন এবং বুকিং দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
সব মিলিয়ে এবার সাতক্ষীরায় দেশীয় গবাদি পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় বাজারে প্রতিযোগিতা ও দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মোমিন/ হাফিজ/ আয়না নিউজ