| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাশিয়ার যুদ্ধে আরও ২ বাংলাদেশির মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩৯

  • আপডেট টাইম: 23-05-2026 ইং
  • 4382 বার পঠিত
রাশিয়ার যুদ্ধে আরও ২ বাংলাদেশির মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩৯

রাশিয়ায় উন্নত জীবনের আশায় গিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে জড়িয়ে আরও দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রুশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়ে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহতরা হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ খাগড়াছড়া এলাকার সুরুজ কাজী (৩৫) এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীর হোসেন (২৪)। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় কুমিল্লার ইউসুফ খান নামের আরেক বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্যও উঠে এসেছে, যদিও তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, সুরুজ কাজী উন্নত জীবনের আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। পরে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেই তার মৃত্যুর খবর আসে। খবর নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েন।

সুরুজ কাজী ছিলেন তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড়। তার বাবা শাহাবুদ্দিন কাজী বলেন, “ছেলে ভালো থাকার আশায় বিদেশে গিয়েছিল, এখন সব শেষ হয়ে গেল। আমি অন্তত শেষবারের মতো তার মুখ দেখতে চাই।”

পরিবার আরও জানায়, মাত্র তিন মাস আগে ঠান্ডাজনিত রোগে সুরুজের দুই বছরের ছেলে মারা যায়। সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার।

অন্যদিকে জাহাঙ্গীর হোসেন কয়েকদিন আগে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। এর আগে একই জেলার আরেক যুবক রিয়াদ রশিদ ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র বাংলাদেশি যুবকদের রাশিয়ায় পাঠাচ্ছে। সেখানে পৌঁছানোর পর অনেককে জোর করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে।

গোপালগঞ্জের কয়েকটি পরিবারের দাবি, নির্মাণ খাতে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের স্বজনদের রাশিয়ায় নেওয়া হলেও পরে যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় একটি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে রাশিয়ায় অবস্থানরত এক বাংলাদেশি তরুণ দাবি করেন, চাকরির কথা বলে তাদের কয়েকজনকে নেওয়া হলেও পরে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। তার ভাষ্যমতে, তাদের মধ্যে কয়েকজন মাইন ও ড্রোন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধের উদ্দেশ্যে কেউ যেন রাশিয়া বা ইউক্রেনে যেতে না পারে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে।

হাফিজ/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪