আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনায় নাড়া দিয়েছে পুরো বাংলাদেশকে। নৃশংস এই ঘটনার পর আলোচনায় উঠে এসেছে ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ম্যাথিউ রিচার্ডসের পরিচালনায় ‘দ্য ডিসাপিয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’ নামের একটি শর্টফিল্ম। স্বল্পদৈর্ঘ্যের এ চলচ্চিত্রে এক ধর্ষককে ভয়াবহ শাস্তি দেয়ার গল্প উঠে এসেছে। যেখানে এই ধরণের অপরাধে শাস্তি নিশ্চিতে প্রচলিত বিচারব্যবস্থার অক্ষমতা, ভুক্তভুগীর পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, প্রতিশোধ ও মানবিক দিক তুলে ধরা হয়।
চলচ্চিত্রটিতে, উইলি বিংহাম নামের এক ভয়ংকর অপরাধী নিষ্পাপ এক বাচ্চা মেয়েকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে খুন করে । তবে সে দেশ থেকে মৃত্যুদণ্ড শাস্তির বিধান উঠে যাওয়ায় ‘প্রগ্রেসিভ অ্যামপুটেশন’ নামের নতুন এক ধরণের শাস্তির মুখোমুখি করা হয় তাকে। নতুন এই শাস্তিতে ধাপে ধাপে ধর্ষকের শরীরের অঙ্গ কেটে নেয়া হয়। প্রতিবার একটা সার্জারির পর দোষী সাব্যস্ত আসামী সুস্থ হলে তাকে আবার অপারেশন টেবিলে ছুড়ি-কাঁচির নিচে আনা হয়।
যতক্ষণ না অপরাধীর প্রতি ভুক্তভোগীর পরিবারের মায়া জন্মায় ততদিন পর্যন্ত ধাপে ধাপে হাত-পা-নাক-কানসহ শরীরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অঙ্গও কেটে নেওয়া হতে থাকে। ভুক্তভোগীর পুরো পরিবার প্রতিটি অপারেশন গ্লাসের অপর পাশ থেকে এই অঙ্গ কেটে নেওয়া দেখতে থাকে ।
এরপর অন্যদের সাবধান করতেই হুইলচেয়ারে করেই অবাধ্য ও বখাটে কিশোরদের সামনে তাকে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয় এবং উইলিকে দিয়ে দেওয়ানো হয় বক্তৃতা, যাতে তার এই পরিণতি দেখে অন্য কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
চলচ্চিত্রটিতে শেষ পর্যন্ত শাস্তি শুরুর পাঁচ মাস পর পঞ্চম বারের অস্ত্রোপচারে ভুক্তভোগীর বাবার অনুমতিতে কেটে ফেলা হয় উইলির যৌনাঙ্গ। পুরুষত্ব হারিয়ে উইলি আর কোন দিন কথা বলেননি। এমনকি সার্জারির আগে তিনি যে কান্নাকাটি আকুতি করতেন তাও বন্ধ হয়ে যায় চিরতরে। এরপরের সার্জারিতে কেটে নেওয়া হয় তার দুই কান, নাক এবং জিহ্বার অগ্রভাগ। লেজার দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় শরীরের চামড়া। এমন সময় উইলি ছিলেন শুধুই মৃত্যুর কামনায়।
অবশেষে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই দিন। এই ধাপে উইলির হার্ট বা ব্রেন সার্জারি করা হবে। সে ঢলে পড়বে মৃত্যুর কোলে। তবে সবাইকে অবাক করে এই সার্জারিতে অনুমতি দিলেন না ভুক্তভোগীর বাবা।
স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমাটিতে ন্যায়বিচার, মানুষের প্রতিশোধ পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যা দর্শকদের দীর্ঘ সময় ভাবিয়ে রাখে।
চলচ্চিত্রটিতে উইলি বিংহামের চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন কেভিন ডি। ভুক্তভোগীর বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন টিম ফেরিস। এছাড়া বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে থাকা জর্জি মর্টনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন গ্রেগরি জে. ফ্রায়ার। তার কণ্ঠেই সামনের দিকে এগিয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রটি।
নৃশংস এই হত্যাকান্ডের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি এখন পুরো বাংলাদেশের। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার ও শাস্তি কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকার।
এমন দুর্দর্ষ অপরাধীর জন্য সর্টফিল্মটিতে দেখানো শাস্তি প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন অনেক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী।
আল রাজীব/ আয়না নিউজ