পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর চালু হওয়া এসব হাটে এখন গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া কেনাবেচা জমে উঠছে।
রাজধানীর বিভিন্ন অস্থায়ী ও স্থায়ী হাটে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ট্রাক ও নৌপথে পশু আসছে প্রতিদিন। তবে হাটগুলোতে এখনও পুরোপুরি বেচাকেনা শুরু না হলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, হাটে পর্যাপ্ত পশু আসতে শুরু করায় দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে উন্নত জাতের বড় গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকায় সেগুলোর দাম কিছুটা বেশি।
অন্যদিকে ক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে পশুর সরবরাহ বাড়লে দাম আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে আশা করছেন তারা।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে হাটগুলোতে নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কোরবানির পশুর হাট বসানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনগুলো। ইতোমধ্যে হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু ও মহিষ আসতে শুরু করেছে। তবে এখনো হাটগুলোতে জমজমাট বেচাকেনা শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ বছর সারাদেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হবে। রাজধানীতে দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতায় মোট ২৭টি অস্থায়ী হাট নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৬টি হাট বসবে।
হাটে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি, জমেনি বেচাকেনা
গাবতলীসহ বিভিন্ন হাটে এখনো বাঁশ-খুঁটি বসানো ও অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিক্রেতারা পশুকে খাওয়ানো ও পরিচর্যায় সময় কাটাচ্ছেন। তবে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় এখনো বেচাকেনা জমে ওঠেনি।
গাবতলীর হাটে কুষ্টিয়া থেকে আসা কফিল উদ্দিন জানান, “দুইটি গরু এনেছি, দাম ১০ লাখ টাকা চাচ্ছি। কিছু দরদাম হলেও এখনো ক্রেতা সন্তোষজনকভাবে আসেনি।” একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান আরেক বিক্রেতা আবুল হোসেনও।
নজর কাড়ছে বিশাল মহিষ
কেরানীগঞ্জের লাকীচর থেকে আনা প্রায় এক টন ওজনের একটি বিশাল মহিষ হাটে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে। বিক্রেতা মজিবুর রহমান জানান, মহিষটির দাম প্রায় ২৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। তিনি ক্রেতাদের আকর্ষণে সঙ্গে দুই মণ ওজনের একটি সাদা গরু “ফ্রি” দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।
দেশীয় পশুর আধিপত্য, ভারতীয় গরু অনুপস্থিত
এবারের কোরবানির হাটে ভারতীয় গরুর উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে দেশীয় খামার ও গৃহস্থদের পশুর চাহিদা বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ না করায় বাজারে দেশীয় পশুর আধিপত্য তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় খামারিদের জন্য স্বস্তিদায়ক।
ঢাকা দুই সিটির হাটের অবস্থান
ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত স্থানে অস্থায়ী হাট বসছে। পোস্তগোলা, আফতাবনগর, শ্যামপুর, মিরপুর, কালশী, উত্তরা, বাড্ডা ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব হাটের প্রস্তুতি চলছে।
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ
পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে দুই সিটি কর্পোরেশন। সাদা পোশাকে পুলিশ, ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম এবং পশুর স্বাস্থ্য সনদ যাচাই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে পৃথক টাস্কফোর্স কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
অনলাইনে বাড়ছে পশু কেনাবেচা
ঐতিহ্যবাহী হাটের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও কোরবানির পশু কেনাবেচা বাড়ছে। অনেক খামারি ফেসবুক পেজ ও ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে পশুর ছবি, ভিডিও, ওজন ও তথ্য প্রকাশ করে বিক্রি করছেন। এতে ক্রেতারা ঘরে বসেই পশু নির্বাচন করতে পারছেন এবং হাটের ভিড়ও এড়িয়ে চলা সম্ভব হচ্ছে।
সব মিলিয়ে কোরবানির ঈদকে ঘিরে রাজধানী ও সারাদেশে পশুর হাটগুলো ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করলেও এখনো পূর্ণমাত্রার বেচাকেনার জন্য অপেক্ষা করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
হাফিজ/ আয়না নিউজ