| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের

  • আপডেট টাইম: 20-05-2026 ইং
  • 24002 বার পঠিত
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে এই প্রস্তাবকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ আরও বাড়বে এবং শিল্প খাত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত দুইদিনব্যাপী গণশুনানির প্রথম দিনে এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র মতামত উঠে আসে। শুনানিতে বিপিডিবি জানায়, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ছয়টি বিতরণ কোম্পানি খুচরা পর্যায়ে ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করেছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিনিধিরা বলেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি হলে সরকারকে জনগণের অর্থেই ভর্তুকি দিতে হবে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই চাপ সৃষ্টি করবে। ক্যাবের এক প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, অতীতে নিয়মের ব্যাখ্যা দিয়ে জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাও এতে ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন মিয়া বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে রপ্তানি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জনস্বার্থবিরোধী এবং এটি শিল্প ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি গণশুনানি প্রক্রিয়া ও বিদ্যমান আইনের সংস্কারেরও দাবি জানান।

পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানান, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লার দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির চাপ সরকারকে বহন করতে হচ্ছে এবং প্রস্তাবিত মূল্য সমন্বয় সেই চাপ কিছুটা কমানোর উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৬২ থেকে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে ট্রান্সমিশন ও সিস্টেম লস এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধিও উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ খাতের নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে এবং জনগণের ওপর চাপ হ্রাস পাবে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে দ্বিতীয় দিনের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

হাফিজ/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪