বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল ডিগ্রি সনদ ব্যবহার করে এডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়দের কাছে নাজমুল হুদা এতদিন এইচএসসি পাস হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তবে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর তিনি ডিগ্রি পাসের একটি সনদ জমা দেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে ওই সনদে উল্লেখিত রংপুরের পীরগাছা সরকারি কলেজে যোগাযোগ করা হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, নাজমুল হুদার দেওয়া রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য তাদের সংরক্ষিত রেকর্ডে পাওয়া যায়নি।
পীরগাছা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোরশেদা বেগম জানান, কলেজের রেকর্ড অনুযায়ী ওই রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য নেই। ফলে উপস্থাপিত ডিগ্রি সনদটি জাল বা অসত্য হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এদিকে বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আবদুল করিম জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ এবং দীর্ঘদিনের পরিচিতির কারণে তিনি নাজমুল হুদার নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন। তবে সনদের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি তার দায়িত্ব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে নাজমুল হুদা বলেন, “আমি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। ডিগ্রি পাস না হলে আমাকে সভাপতি করা হতো না।”
এ বিষয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর আমিনুল হক বলেন, সভাপতি মনোনয়নের প্রাথমিক প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকেই পাঠানো হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রধান শিক্ষককে দায়ী করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইম্রানুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এই বিতর্কের মধ্যেই গত ৫ মার্চ প্রধান শিক্ষক আবদুল করিমের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এমন জালিয়াতির অভিযোগ প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।