বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
রাজধানীর তুরাগ থানার একটি বাসায় ঢুকে ডাকাতদের হামলায় রেজিনা মমতাজ (৬৬) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। তারাবির নামাজ চলাকালে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে বাসা থেকে সোনার গহনা ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। ঘটনার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ক্লুলেস এ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে তুরাগ থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নূরে আলম বাঘ (৪৭) ও মো. রাসেল মাদব্বর ওরফে রাসেল ইসলাম জনি (২৫)। এ সময় লুণ্ঠিত এক জোড়া সোনার চুড়ি, একটি সোনার চেইন, একটি পিতলের নাকফুল এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্কচটেপ ও ভাঙা চশমা উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
পুলিশ জানায়, তুরাগ থানার ১৫ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন রেজিনা মমতাজ। গত ২ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে তার স্বামী তারাবির নামাজ আদায়ের জন্য বাসা থেকে বের হন। রাত প্রায় ৯টা ১৫ মিনিটে বাসায় ফিরে তিনি দরজা খুলে দেখতে পান, রেজিনা মমতাজের হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং নাক-মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো অবস্থায় মেঝেতে অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল।
পরে দ্রুত তাকে ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাত ৮টা ১৮ মিনিটের দিকে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি বাসায় প্রবেশ করেন। তারা বাসায় থাকা রেজিনা মমতাজের হাত-পা বেঁধে এবং নাক-মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে সোনার গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে তুরাগ থানাধীন ১৫ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে নূরে আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১২ নম্বর সেক্টরের একটি অফিস থেকে লুণ্ঠিত সোনার গহনা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্কচটেপ ও ভাঙা চশমা উদ্ধার করা হয়।
একই দিন উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশন এলাকা থেকে অপর আসামি মো. রাসেল মাদব্বরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।