বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
মাগুরা-ফরিদপুর মহাসড়কের কেষ্টপুর স্ট্যান্ডে একটি নামফলক ধুলো, ময়লা আর অবহেলায় ঢেকে গিয়েছিল ইতিহাসের একটি নাম ভাষাসৈনিক এ কে এম হামিদুজ্জামান এহিয়া। যে নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় স্মৃতি। কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, সন্তানের চোখে ভেসে উঠেছে তার বাবার ত্যাগের গল্প নিছক সন্তানের দায়বদ্ধতা থেকেই নিজ হাতে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করলেন কবি ও কলাম লেখক সাগর জামান।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থী হামিদুজ্জামান এহিয়া মাগুরায় সহপাঠীদের সংগঠিত করার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ঢাকাসহ সারাদেশে যখন গণআন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে ভাষা আন্দোলনে অংশ নিতে বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকায় যান এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৫৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বেলুচ আর্মড ফোর্স ভাষা আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাঁকে গ্রেফতার করে।
ভাষা আন্দোলনে কে এম হামিদুজ্জামান এহিয়ার গৌরবময় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালের ১৬ জুলাই তৎকালীন সরকার কেষ্টপুর স্ট্যান্ড থেকে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল বাজার পর্যন্ত সড়কটি তার নামে নামকরণ করে একই বছরের ১৬ জুলাই সড়কের নামফলকটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সিরাজুল আকবর। ১৯৫২-এর উত্তাল দিনগুলোতে যিনি ভাষার দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন, গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তাকে ২০১৪ সালে ভাষা আন্দোলন গবেষণা কেন্দ্র ও মিউজিয়াম থেকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়।
ভাষা সৈনিক প্রয়াত এ কে এম হামিদুজ্জামান এহিয়া’র পুত্র সাগর জামান বলেন, ভাষা আন্দোলন এটি জাতির গৌরবের ইতিহাস। সেই ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি নামফলক দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকতে দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। সন্তানের দায়বদ্ধতা থেকেই নিজ হাতে পরিষ্কার করেছি। তবে এটা শুধু আমার একার দায়িত্ব নয়। ভাষাসৈনিকদের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের চেতনা বাঁচিয়ে রাখতে এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন যত্নের সঙ্গে রক্ষা করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।