বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
দীর্ঘ ২০ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে জয় পেয়ে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিএনপি। অন্যান্য দলের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ৬৬টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ১৪টি আসনে জয় পেয়েছেন। বাকি ৪২টি আসনের ফলাফল এখনো প্রক্রিয়াধীন থাকায় আশা করা হচ্ছে দুপুরের মধ্যেই ২৯৯টি আসনের অফিসিয়াল ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
তারেক রহমানের অভিষেক ও নেতৃত্বে বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এবারই প্রথমবার তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ উভয় আসনেই জয়লাভ করেন।
সর্বশেষ ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে ইস্তফাপত্র প্রদানের মাধ্যমে সেই মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া এই দলটিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তারেক রহমান ২৭ ডিসেম্বর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। ১৯৯৩ সালে বগুড়ায় গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করে তিনি তৃণমূল রাজনীতিতে সাড়া ফেলেন। ২০০২ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করে যুগপৎ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে
গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করলে ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটি তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
বাংলাদেশে সরকার গঠনের জন্য ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত ১৫১টি আসনে জয়ের প্রয়োজন হয়। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি এককভাবেই সেই সংখ্যা অতিক্রম করেছে। এর আগে জামায়াত বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে সরকার ও বিরোধী দলে থাকলেও এবারই প্রথম তারা প্রধান বিরোধী শক্তির মর্যাদা পেতে যাচ্ছে।