বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
পঞ্চগড়-১ আসনের আটোয়ারী উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের রমজানপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার ( ১০ফেব্রুয়ারি ) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি অভিযোগ করেন, আগের দিন আটোয়ারীতে তার শেষ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপির জনসভার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল। এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তিনি বলেন, ধামোর ও মির্জাপুর ইউনিয়নে তার নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার সময় ভ্যান ও পিকআপ আটকে হামলা করা হয়। একটি ছোট ব্যানারকে কেন্দ্র করে অযথা সংঘর্ষ সৃষ্টি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এনসিপি বা জোটের কেউ ব্যানার ছেঁড়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়।
সারজিস আলম আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো রিং ব্যবহার করে হামলা চালান। এতে এক কর্মীর চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে চারজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং আরও চারজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর বিএনপির কিছু নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে নাটকীয়ভাবে আহত হওয়ার ভান করেন এবং কেউ আহত না হলেও অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ভাষ্য, ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটকেন্দ্র বিমুখ করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার খবর পেয়ে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে গেলে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির ৩০–৫০ জন নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয় এবং তার গাড়িতেও হামলার চেষ্টা করা হয় বলে তিনি জানান। গাড়িতে থাকা ক্যামেরায় পুরো ঘটনা ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, রক্তাক্ত সংঘর্ষের পরও প্রশাসন কেবল হাত মিলিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। কঠোর ব্যবস্থা না নিলে রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের প্রার্থীর ব্যানার ছেঁড়ার প্রতিবাদ করতে গেলে জামায়াত-এনসিপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। ধামোর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।
বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের নির্বাচনী এজেন্ট ব্যারিস্টার নওফল জমির জানান, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।