বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
মাগুরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল মল্লিকের (৪০) ওপর হামলা, তার অবস্থান করা বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রুহুল মল্লিক মাগুরা পৌরসভার বরুনাতৈল গ্রামের বাসিন্দা আলি রেজা মল্লিকের ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মাগুরা জেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাব্বি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি রুহুল মল্লিক। শুক্রবার দুপুরে তিনি গোপনে পারনান্দুয়ালী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী শাহানাজ খাতুনের সঙ্গে দেখা করতে আসেন।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে আওয়ামী লীগবিরোধী একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী বাড়িটি ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তারা বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে পেট্রোল ঢেলে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং রুহুল মল্লিককে আটক করার উদ্যোগ নেয়। তবে পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই বিক্ষুব্ধ লোকজন বাড়ির ভেতরে ঢুকে তাকে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করে এবং সেখানে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
রুহুল মল্লিকের স্ত্রী শাহানাজ পারভীন সাংবাদিকদের বলেন, “আমার ছেলের অসুস্থতার খবর শুনে বৃহস্পতিবার রাতে রুহুল ভাড়া বাসায় আসে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মারধর শুরু করে। আমাকেও তারা পিটিয়েছে।”
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, বিক্ষুব্ধদের হাত থেকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় রুহুল মল্লিককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে।