বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানের দক্ষিণ কোরদোফান প্রদেশে চলমান সংঘাতের মধ্যে একটি সামরিক হাসপাতালে ভয়াবহ হামলায় প্রাণহানির ঘটনা দেশটির মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) চালানো ওই বোমা হামলায় স্বাস্থ্যকর্মীসহ বহু মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
সুদানের দক্ষিণ কোরদোফান প্রদেশের আল-কুওয়েইক সামরিক হাসপাতালে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) বোমা হামলায় ২২ জন নিহতদের মধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিচালক এবং আরও ৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু। এ হামলায় আরও ৮ জন আহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার এক চিকিৎসক সংগঠন জানিয়েছে।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক সংগঠনটি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও চিকিৎসা কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো একটি যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও বেসামরিক মানুষ ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সুরক্ষার আন্তর্জাতিক বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
দক্ষিণ কোরদোফানজুড়ে ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই এ হামলা সংঘটিত হয়েছে যার ফলে একাধিক হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়ার পাশাপাশি মানবিক সংকট এবং বেসামরিক মানুষের জন্য অবশিষ্ট স্বাস্থ্যসেবাও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। হামলার জন্য আরএসএফকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করে জাতিসংঘের সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি চিকিৎসা স্থাপনায় বারবার হামলা বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতেও আহ্বান জানিয়েছে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক।
সুদানের ১৮টি প্রদেশের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের দারফুর অঞ্চলের পাঁচটি প্রদেশের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আরএসএফের হাতে। কেবল উত্তর দারফুরের কিছু অংশ রাজধানী খার্তুমসহ দেশের দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের বাকি ১৩টি প্রদেশের বেশিরভাগ এলাকা সেনাবাহিনীর দখলে রয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ হয়েছেন বাস্তুচ্যুত ।