বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রংপুরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে তিনি পীরগঞ্জে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় রংপুরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জনসভায় রংপুর বিভাগের ৩১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত থাকবেন।
এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মিলনায়তনে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আসাদুল হাবিব। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ২০ বছর পর তারেক রহমান রংপুরে আসছেন—এই খবরে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা রংপুরের উন্নয়নের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর বিভাগে বিএনপির পক্ষে ব্যাপক গণজাগরণ তৈরি হয়েছে। এক দিনের প্রস্তুতিতে জনসভা আয়োজন হলেও রংপুরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী মো. সামসুজ্জামান সামু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলামসহ বিভাগের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আসাদুল হাবিব জানান, বৃহত্তর রংপুরের উন্নয়নে তারেক রহমানের কাছে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু, ভারি শিল্প ও গ্যাস সংযোগ, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং শহীদ আবু সাঈদের নামে একটি বড় প্রতিষ্ঠান স্থাপন।
এদিকে, তারেক রহমানের আগমন ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) তোফায়েল আহমেদ জানান, ভিআইপি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় সাদাপোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।