বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
হিমালয়ের পাদদেশ ঘেঁষা জনপদ নীলফামারীতে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। গত দুই দিন ধরে দেখা মেলেনি সূর্যের। চারদিকে ঘন কুয়াশার দাপট আর উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের এই সীমান্ত জেলা। আকাশ এতটাই মেঘাচ্ছন্ন যে, সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও কুয়াশার চাদর সরছে না।
বৃষ্টি না হলেও টুপটুপ করে বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির কণা। রাস্তাঘাটে মোটরসাইকেল বা বাইসাইকেল নিয়ে বের হলেই মুহূর্তের মধ্যে ভিজে যাচ্ছে চালকের পরনের পোশাক। হেডলাইট জ্বালিয়েও সামনের পথ দেখা দুষ্কর হয়ে পড়েছে, ফলে জীবন যেন থমকে দাঁড়িয়েছে কুয়াশার ধূসরতায়। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না।
শীতের এই তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। ঘরে ঘরে বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। নিম্ন আয়ের মানুষ ও দিনমজুরদের অবস্থা আরও করুণ হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় কাজে যেতে না পারায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের উষ্ণতা নিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
পলাশবাড়ী ইউনিয়নের এনজিও কর্মী হামিদুর রহমান বলেন আমি সকাল ৮ টায় বাইসাইকেলে বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে যাচ্ছিলাম ঘন কুয়াশা আর ঝিরঝির বৃষ্টির মতন পানি আমার শরীরে সমস্ত পোশাক ভিজিয়ে দিয়েছে।
টুপামারী ইউনিয়নের মোছা: মাছুমা খাতুন বলেন, সকালে আলু তোলার জন্য জমিতে আসি কিছুক্ষণ আলু তোলার পরে শরীরের কাপড় ভিজেগেছে। উপর থেকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মত পানি ঝড়ছে।
২৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় নীলফামারী ডিমলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক আব্দুস সবুর মিয়া জানিয়েছেন ডিমলা উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে কনকনে বাতাসের কারণে ঠান্ডার অনুভূতি আরও অনেক বেশি।
জেলা সিভিল সার্জন ডা: মো:আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন শীত ও ঠান্ডা জনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বেশি আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধ।