বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
সুভাষ বিশ্বাস, নীলফামারী
সীমান্তঘেঁষা উত্তরের জেলা নীলফামারীতে প্রকৃতি ধবধবে সাদা কুয়াশার চাদরে বন্দি। হিমালয়ের কাছা কাছি হওয়ায় প্রতিবছরই এখানে শীতের তীব্রতা থাকে বেশি। তবে এ বছর হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সাথে যোগ হয়েছে তীব্র হিমেল বাতাস, যা জনজীবনকে করে তুলেছে স্থবির।
রোববার ( ২১ ডিসেম্বর ) ভোরে সরেজমিনে দেখা যায়, ঘন কুয়াশার দাপটে দৃষ্টিসীমা নেমে এসেছে কয়েক মিটারে। কুয়াশার চাদর ফুঁড়ে সূর্যের আলোর দেখা মেলা ভার। এমন প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেও থেমে নেই জন জীবন।
কুয়াশাচ্ছন্ন নীলফামারী বড় মাঠে দেখা গেল এক অন্যরকম দৃশ্য। চারদিকে মানুষ যখন লেপ-কাঁথা মুড়িয়ে উষ্ণতা খুঁজছে, ঠিক তখন ভারী বারবেল তুলে শরীরচর্চা করছেন এক ব্যক্তি। তার এই উদ্যম যেন শীতের জড়তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই জীবিকার তাগিদে নিম্নআয়ের মানুষকে ঘরের বাইরে বের হতে দেখা গেছে।দুর্ভোগে ছিন্নমূল ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন, উপযুক্ত শীতবস্ত্রের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে অনেককে।
তীব্র ঠান্ডার কারণে খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়েছে চরম বিপাকে। বিশেষ করে নির্মাণ শ্রমিক ও দিনমজুরদের কাজে যেতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। রিক্সা চালক আব্দুল কালাম জানান, হাত-পা যেন ঠান্ডায় অবশ হয়ে আসে, তবুও পেটের দায়ে নামতে হয় রাস্তায়।
নির্মাণ শ্রমিক আশরাফুল আলম জানান, ঠান্ডা বাতাসে হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলো শক্ত হয়ে আসে কোদাল,বস্তা,বালু টানার মত মতো আঙুল ও হাতে জোর পাওয়া যায় না
শীতের এই সময়ে শিশুদের নিউমোনিয়া ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতাল গুলতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন শীতজনিত কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্তের শিকার হন বেশি। এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি সকাল-সন্ধ্যায় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
তবে প্রতিকূলতার মাঝেও মানুষের এই টিকে থাকার লড়াই আর শীতের ভোরের স্নিগ্ধতা নীলফামারী জেলাকে দান করেছে এক অনন্য রূপ। কুয়াশার এই চাদর ভেদ করে দ্রুতই রোদ ঝলমলে সকালের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে উত্তরের এই জনপদ।