বিশেষ প্রতিনিধি, Riyadh Khan।।
বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এ বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী ও পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়।
কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়। বরং দুনিয়ার বুকে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি, সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য হবে আগামীর বিপ্লব।’
গতকাল খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রাখেনি।
আমরা বিএনপিকে বলছি, দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল করছেন, ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন। জনরায়কে সম্মান করুন, জনরায়কে সম্মান না করার পরিণতি কী হতে পারে দফায় দফায় দেখার পরেও যদি শিক্ষা না হয়, জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না।’
তিনি বলেন, আমরা কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। সরকারকে স্পষ্ট বলে দিচ্ছি—যদি এই দেশবাসী ও আমরা দেখতে পাই আধিপত্যবাদের সামনে সরকার মাথা নত করছে, আপনাদেরও আমরা ছেড়ে কথা বলব না।
বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, চুরি, ডাকাতি, ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নেওয়া হোক। আমরা সংসদে যা আছি তাই নিয়ে সিংহের মতো লড়াই করে যাব। আমরা জানি সহজে কানে পানি ঢুকবে না, তখন সিরিঞ্জ দিয়ে যদি ঢোকাতে হয়, তাহলে আমরা ঢোকাব। যদি ফয়সালা সংসদে না হয়, তাহলে যেখানে কথা বলতে মাননীয় স্পিকার বলতে হয় না, যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমোদন লাগে না সেই খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়ার মাঠ—সব জায়গা থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। এ আগ্নেয়গিরির দাবানলে সমস্ত আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।
সীমান্ত ইস্যুতে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সীমান্তে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে। পুশইনের নামে একটা দেশ তাদের নাগরিকদের অবৈধভাবে আমাদের দেশে ফেলে দিতে চাচ্ছে। আমাদের মুষ্টিমেয় বিজিবি সদস্য সীমান্তে যখন দাঁড়িয়ে গিয়েছে, জনগণ তখন তাদের ডান হাতে পরিণত হয়েছে। এ ডান হাত সারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ। আমরা চাই না আমাদের কোনো প্রতিবেশীর ঘুম ও শান্তি কেড়ে নিতে। আবার কোনো প্রতিবেশী আমাদের দিকে তাদের কালোহাত বাড়াক, ওইটাও আমরা চাই না। যদি কেউ আমাদের দিকে কালোহাত বাড়ায়, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলছি—সেই কালোহাত ভেঙে দেওয়া হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়ে জনগণ ভোট দিয়েছে, তা কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে। এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে না পারে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যেই আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) যুগ্মসচিব অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।
রিয়াদ খান/আয়না নিউজ