বিশেষ প্রতিনিধি, Md Al Rajib।।
আজিমপুর সরকারি কলোনির জোন-সি-এর ৩১টি ভবনে বসবাসকারী ৪১৮টি পরিবারের পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের বিরুদ্ধে। এঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২০জুন) মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীরা। এসময় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনায় প্রথমে পুনর্বাসনের কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত না মেনে ভবন ভাঙ্গার কাজ শুরু করা হয়েছে। কোনো পরিবারকে পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা সমীচীন হবে না। আগে বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান বক্তারা।
পরিকল্পনা কমিশনের সিদ্ধান্ততে উল্লেখ করা হয়, জোন-বিতে পূর্বে নির্মিত ২৩ টি বহুতল ভবনের ফাঁকা ফ্লাটে অথবা জোন-এ এলাকায় নির্মাধীন ভবনসমূহে ধাপে ধাপে বর্তমান বাসিন্দাদের স্থানান্তর করা হবে। প্রয়োজন হলে মিরপুরের সরকারি আবাসন প্রকল্পেরও স্থানান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছিল।
কিন্তু গত ৭ মে তাদেরকে ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জে আবাসন বরাদ্দের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় যা পরিকল্পনা কমিশনের সিদ্ধান্ততের সাথে সাংঘর্ষিক। এসময় পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে ভবন ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা।
বর্তমান বাসিন্দাদের সকলের কর্মস্থল আজিমপুরের আশেপাশে এবং সন্তানরাও এই এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। হঠাৎ করে তাদের নারায়ণগঞ্জ চলে যেতে বাধ্য করা হলে চাকরি রক্ষা ও সন্তানদের পড়াশোনা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্তের আজিমপুর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে গুরতর অভিযোগ করা হয়েছে মানববন্ধনে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বার বার উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেছেন তিনি, যা তার এখতিয়ার বর্হিভুত। বহিরাগত ব্যক্তি ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন দিয়ে বাসিন্দাদের ভয়ভীতি ও বাসা খালি করার চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করা হয় মানববন্ধনে। এবিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ পাননি বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কলোনির দক্ষিণ অঞ্চল কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোসা. কোহিনূর আক্তার শ্যামলী ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মনোয়ার হোসেন কায়সার। এসময় বাসিন্দারা বলেন, উচ্ছেদ হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সন্তানদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তাই বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় সমাধানের দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে শিক্ষার্থী শিশুরাও অংশ নেয়।
আল রাজীব/ আয়না নিউজ