বিশেষ প্রতিনিধি, Surjoy Karmaker।।
গ্রীষ্মে শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হওয়াই স্বাভাবিক। সেই সাথে দেখা দেয় পানিশূন্যতা। ফলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে নানা সমস্যা দেখা দেয়। বাইরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে, শরীরের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পায়। এর সাথে মাথা ঘোরা, হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, দুর্বলতা ইত্যাদি শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও দেখা যায়। যার চরম পর্যায় হিটস্ট্রোক। হিটস্ট্রোক এর ভয়াবহতা সম্পর্কে অনেকই সচেতন নয়। এই সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে ও পানিশূন্যতা এড়াতে কিছু খাবার ও পানীয় বেশ উপকারী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, দ্রুত হৃদস্পন্দন, গাঢ় প্রস্রাব, বিভ্রান্তি বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণকে কখনোই হালকাভাবে নেয়া উচিত নয়। এই সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে ও পানিশূন্যতা এড়াতে কিছু খাবার ও পানীয় বেশ উপকারী হতে পারে। গরমের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি এসব পানিসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখলে হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন গরমজনিত সমস্যা থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যেসব খাবার ও পানীয় রাখতে পারেন...
১. ডাবের পানি: প্রাকৃতিকভাবে শরীর ঠান্ডা রাখতে ডাবের পানি অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা ইলেক্ট্রোলাইট ও খনিজ শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে এবং গরমে শরীর সতেজ রাখে।
২. ঘোল ও লাচ্ছি: গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে ঘোল ও লাচ্ছি বেশ কার্যকর পানীয়। তবে এগুলো বাসায় তৈরি হওয়াই ভালো। রাস্তার পাশের খোলা পানীয় বা শরবত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ সেগুলো অস্বাস্থ্যকর হতে পারে।
৩. তরমুজ: রসালো ও পানিসমৃদ্ধ ফল তরমুজ গরমে শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক। নিয়মিত তরমুজ খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিও কমতে পারে।
৪. শসা: শসা গ্রীষ্মকালের অন্যতম উপকারী খাবার। পানিসমৃদ্ধ এই সবজি শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং সতেজতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৫. লেবুর শরবত: লেবুর শরবত গরমের সময় খুবই উপকারী পানীয় হিসেবে পরিচিত। সামান্য লবণ মিশিয়ে ঘরে তৈরি লেবুর শরবত শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার করা যাবে না।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চা বা কফির মতো পানীয় এবং বোতলজাত অতিরিক্ত মিষ্টি কোমল পানীয় ডিহাইড্রেশন বাড়াতে পারে। তাই এগুলোর বদলে বিশুদ্ধ পানি এবং পুষ্টিকর প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নেওয়াই শ্রেয়।
সূর্যয় / আয়না নিউজ