বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার ভূমিকা না থাকলে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট মোকাবিলা এবং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার ক্ষেত্রে তার প্রশাসনের পদক্ষেপই ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উপস্থিতিতে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েল থাকত না। আমি না থাকলেও ইসরায়েল থাকত না। কারণ আমি যা করেছি, তা করার জন্য অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট প্রস্তুত ছিলেন না।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “আমি হস্তক্ষেপ না করলে অনেক আগেই ইসরায়েল ধ্বংস হয়ে যেত।”
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা ওই কূটনৈতিক উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তিনি জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও ভালো থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
ট্রাম্প বলেন, “বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এখন লেবাননের বিষয়ে তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
লেবাননের অতীত অবস্থার কথা স্মরণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, একসময় দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সমৃদ্ধ ও শিক্ষিত রাষ্ট্র ছিল। সেখানে চিকিৎসক, আইনজীবী ও অধ্যাপকদের আধিক্য ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি “ভয়াবহ” বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার আগে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর অসন্তুষ্ট হন। ইসরায়েল দাবি করেছিল, বৈরুতে হিজবুল্লাহর একটি অবস্থান লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হামলার খবর পেয়ে তিনি বিস্মিত হন। তার দাবি, হামলার আগে উভয় পক্ষ সংঘাত এড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
তিনি বলেন, “আমরা চুক্তি সই করতে যাচ্ছি, তার মাত্র এক ঘণ্টা আগে এমন ঘটনা ঘটল। এটা খুবই খারাপ ছিল।”
নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “এমন হামলা চালানোর কী প্রয়োজন ছিল? আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। আমি তাকে সেটা জানিয়েছি। তার বিচক্ষণতার ঘাটতি আছে বলেও জানিয়েছি।”
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে সংঘাত চলাকালে দখল করা লেবাননের অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। তার মতে, ওই এলাকা থেকে সেনা না সরানো পর্যন্ত যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচিত সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের কোনো শর্ত অন্তর্ভুক্ত নেই। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন লেবাননে অবস্থান করবে ইসরায়েলি বাহিনী।
হাফিজ/ আয়না নিউজ