বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি ও সমঝোতা চুক্তির খসড়া দেখতে চাইলেও তা ইসরায়েলকে দেখাতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনার সময় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।ফলে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনও জানে না তেল আবিব।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সমঝোতা স্মারকের (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) খসড়া দেখতে মার্কিন প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছিলেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চুক্তির বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনও ইসরায়েলের কাছে অজানা।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন তথ্যও সামনে এসেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের কাছে ইসরায়েল এমন কোনো অনুরোধই জানায়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনকে ‘ভুল’ বলে দাবি করেছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়ার পুরো সময়জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রেখেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি ধারা নিজে পর্যালোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এদিকে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চুক্তিতে মোট ১৪টি ধারা রয়েছে। এসব ধারার মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং দেশটির পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় শুরু হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন কিংবা তেহরান—কোনো পক্ষই সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। ফলে চুক্তির প্রকৃত শর্ত ও এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ