বিশেষ প্রতিনিধি, Md Al Rajib।।
অভিনয়ে নিয়মিত না হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সক্রিয় টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। সম্প্রতি তার একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে চলছে তুমুল আলোচনা। যেখানে নায়িকা প্রেমে পড়ার ইঙ্গিতপূর্ণ একটি পোস্ট দিয়েছেন! এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছেন প্রভা।
দীর্ঘদিন আগের গোপন ভিডিও নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সাইবার অপরাধী ও বুলিংকারীদের বিরুদ্ধে কিছু ‘জ্বালাময়ী সত্যি কথা’ বলেছেন।
ভিডিওবার্তায় প্রভা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা না বললেও নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এখন আর চোখ বন্ধ করে থাকা সম্ভব নয়। তাই নিজের ভেতরে থাকা সত্যিগুলো প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি।
অনলাইনে যারা অন্যদের ট্রল ও বুলিং করেন, হিউম্যান সাইকোলজি ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের গবেষণার সূত্র ধরে তাদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রভা।
আপনারা আপনাদের নিজের যোগ্যতা, নিজের স্থান, নিজের সৌন্দর্য, নিজের কোয়ালিফিকেশন- এই সবকিছুর প্রতি ইনসিকিউরিটি (নিরাপত্তাহীনতা) থাকার জন্যই তো মানুষকে মক (কটূক্তি) করেন। যারা মানুষের ব্যাপারে এত অ্যাগ্রেসিভলি জাজ করে, বুলিং করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভার্বালি অ্যাবিউজ করে, তারা আসলে নিজেদেরকে নিয়ে স্যাটিসফাইড না এবং তারা দুঃখী। কিন্তু যারা ইনসিকিউর, তারাই ম্যাক্সিমাম টাইমে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে সেলিব্রিটি বা আর্টিস্টদের বুলিং করে বলে জানান তিনি।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার যন্ত্রণা প্রকাশ করে এই অভিনেত্রী বলেন, আমাকে বুলিং করা হচ্ছে অলমোস্ট ১৬ বছর ধরে। আপনারা আমাকে বুলিং করে মজা পান, এটা আপনাদের একটা পৈশাচিক আনন্দ হয়, তা আমি টোটালি আন্ডারস্ট্যান্ড করি। কিন্তু ঠিক যতটুকু আমাকে বুলিং করছেন, তার যদি ৫০ পার্সেন্ট আমাকে (ভিকটিমকে) করে বাকি ৫০ পার্সেন্ট ক্রিমিনালটাকে খুঁজে বের করে মক করতেন, ওকে নিয়ে লেখালেখি করতেন, ওর চেহারাটা বারবার মানুষের সামনে আনতেন যে ও একজন ক্রিমিনাল, তাহলে পরিস্থিতি এমন হতো না।
সমাজে ভিকটিম ব্লেমিংয়ের সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, যেমন আমরা এখন রেপিস্টদের ছবি দিই বা একটা সময় অ্যাসিড নিক্ষেপকারীদের শাস্তি দিতাম, বিশাল পেনাল্টি দেওয়া হচ্ছে। ঠিক তেমনি যারা আরেকটা মানুষের ক্ষতি করে, তাদের সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি ডিসক্লোজ করে, সেটা একটা গুরুতর ক্রাইম। কিন্তু আপনারা সেই মানুষদের বুলিং না করে দিন কে দিন ভিকটিমকে বুলিং করছেন।
অনলাইন ট্রলকারীদের কড়া সমালোচনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, আপনাদের ইনসিকিউরিটি, বিউটি, কোয়ালিফিকেশন বা ইনকাম সোর্স নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যে পরিমাণ বুলিং আপনারা আমাকে করেছেন, তার অর্ধেকও যদি ক্রিমিনালকে করতেন, তাহলে পৃথিবীতে তন্ময়দের জন্ম হতো না। একটা ৩৫ বছর বয়সী ছেলে ও কোনো মিডলাইফ ক্রাইসিসের মধ্যেও নাই, ইয়াং এনাফ। ও চাইলে যে কাউকে ডেট করতে পারত। কিন্তু এই পারভারশন (বিকৃত মানসিকতা) ওর মধ্যে জন্ম নিয়েছে কারণ আমরা সঠিক অপরাধীকে চিহ্নিত করে তার ক্রাইম নিয়ে কথা বলতে পারছি না।
ভিডিও বার্তার শেষ অংশে প্রভা বলেন, আমাদের সমাজে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য চাইল্ডহুড ট্রমা দূর করা ও সঠিক প্যারেন্টিং নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। কিন্তু যখন একজন অপরাধীকে আড়াল করে প্রতিনিয়ত ভিকটিমকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়, তখন সমাজ আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ভিকটিমকে দোষারোপ না করে প্রকৃত অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানান এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রভা বলেন, অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করার এই নোংরা প্রবণতা এবার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। ভিডিও বার্তাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তুমুল আলোচনা ও সচেতনতামূলক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আল রাজীব/ আয়না নিউজ