বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে প্রাথমিক এক সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে হওয়া এই চুক্তির খবরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বস্তি ফিরেছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী বলেছেন, স্মারকটি স্বাক্ষরের পরই এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার শুরু হবে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত
চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা অর্জন না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তেহরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ পারমাণবিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ স্থগিত রাখবে।
এছাড়া ভবিষ্যৎ পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আওতায় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা চালাবে। এ বিষয়ে একটি কঠোর আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা
ইরানের দাবি অনুযায়ী, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে।
ইরান আরও জানিয়েছে, দেশটির জব্দকৃত ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানকে সরাসরি নগদ অর্থ দেওয়া হবে না, যদিও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
লেবাননেও সংঘাত বন্ধের আহ্বান
সমঝোতার আওতায় লেবাননেও সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শেহবাজ শরিফ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।
তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় তাদের নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
সামনে কী ঘটবে?
উভয় পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আগামী ৬০ দিন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
হাফিজ/ আয়না নিউজ